বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
সুন্দরগঞ্জে পাগলা কুকুরের তাণ্ডব, মৃত্যু মিছিলে যোগ হলো আরও এক প্রাণ পঞ্চগড়ে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের সুফল বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত কোরবানির হাটে নজর কাড়তে প্রস্তুত ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের গোলাপি মহিষ জামিন পেয়ে খুন করতে এসে নিজেই খুন হলেন যুবলীগ নেতা অনিয়মের তথ্য নিতে গিয়ে বহিরাগতকে ডেকে আনলেন গুদাম কর্মকর্তা আইজিপির হাত থেকে ‘এক্সেমপ্লারী গুড সার্ভিস ব্যাজ’ পেলেন এএসপি জয়ন্ত কুমার স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে পটুয়াখালীর ৪ ছাত্রী নিখোঁজ ময়নাতদন্তের পর লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন চিকিৎসক আটোয়ারিতে প্রভাবশালী প্রকৌশলী মকবুল ইশারায় ভিটে মাটি ছাড়া ফজলুর পরিবার পঞ্চগড়ের আলোচিত এসপি মো. মিজানুর রহমান প্রত্যাহার
সুন্দরগঞ্জে পাগলা কুকুরের তাণ্ডব, মৃত্যু মিছিলে যোগ হলো আরও এক প্রাণ

সুন্দরগঞ্জে পাগলা কুকুরের তাণ্ডব, মৃত্যু মিছিলে যোগ হলো আরও এক প্রাণ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে থামছেই না মৃত্যুর মিছিল। একই ঘটনায় আরও এক নারীর মৃত্যু হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে। আহত রয়েছেন নারী-শিশুসহ আরও কয়েকজন। টিকা নেওয়ার পরও একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক, উদ্বেগ ও শোকের ছায়া।

বুধবার (১৩ মে) দুপুরের দিকে উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ধুবনী বাজার এলাকার নিজ বাড়িতে মারা যান সুলতানা বেগম (৩৯)। তিনি ওই এলাকার আব্দুস সালামের স্ত্রী। গত ২২ এপ্রিল সকালে একটি বেওয়ারিশ পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার পর থেকে অসুস্থ ছিলেন তিনি। গত চার দিন ধরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বাড়িতেই চিকিৎসাধীন ছিলেন।

দুপুর ১টার দিকে কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য তাজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে একই ঘটনায় মারা যান কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ধুবনী বাজার এলাকার মতিয়ার রহমানের স্ত্রী আফরুজা বেগম (৪০), কঞ্চিবাড়ি গ্রামের খোকা রামের স্ত্রী নন্দ রানী (৫৫), নাইব উদ্দিনের ছেলে ফুলু মিয়া (৫২) এবং পার্শ্ববর্তী ছাপরহাটী ইউনিয়নের রতনেশ্বর বর্মণ (৪২)। পেশায় কাঠমিস্ত্রী রতনেশ্বর ঘটনার দিন বজরা কঞ্চিবাড়ি এলাকায় কাজে এসে কুকুরের কামড়ে আহত হন।

নিহতদের মধ্যে সর্বপ্রথম ৬ মে মারা যান নন্দ রানী ও ফুলু মিয়া। এরপর ৮ মে মারা যান রতনেশ্বর বর্মণ। সর্বশেষ মঙ্গলবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আফরুজা বেগম।
এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন ফজিতন নেছা, রুমিনা বেগম, নজরুল ইসলাম, হামিদুল ইসলাম, গোলেনুর বেগম, মিতু আক্তার, আতিকুর মিয়া, লাবণ্য আক্তার ও বিজয় হোসেনসহ আরও অনেকে।

নিহত সুলতানা বেগমের ছেলে আল আমিন বলেন, “গত চার দিন ধরে আমার মায়ের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। দুধ ছাড়া কিছুই খেতে পারছিল না। কুকুরটি মায়ের কানের নিচে গলায় কামড় দিয়েছিল। পরে হাসপাতালে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল।”
কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য তাজরুল ইসলাম বলেন, “একই ঘটনায় ১৩ জন আহত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হলো। এতে এলাকায় আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে।”

গাইবান্ধার সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, “নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিকা নেওয়ার পরও কেন মৃত্যু হচ্ছে, সেটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।”

গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান বলেন, “সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুকুরে কামড়ের পর কেউ চিকিৎসা নিতে যাননি। সেখানে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা ছিল।”

অন্যদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “কুকুর নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব মূলত ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার। আক্রান্ত এলাকায় কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রয়োজন ছিল, তবে আমাদের কাছে সেই ভ্যাকসিন নেই।”
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, “আহতরা সঠিক সময়ে এবং সঠিক নিয়মে ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন কি না, সেটি যাচাই করা দরকার। ঠিকমতো ভ্যাকসিন নিলে সাধারণত মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে না।”

উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল সকালে বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামে হঠাৎ একটি পাগলা কুকুর তাণ্ডব চালিয়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে ১৩ জনকে কামড়ে আহত করে। আহতদের অধিকাংশের মুখমণ্ডলে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। পরে তারা বিভিন্ন স্থান থেকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নেন। এরপরও একে একে পাঁচজনের মৃত্যু হওয়ায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com